মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
মাতৃভুমি সংবাদ
নিজেস্ব প্রতিবেদক
ভারতে জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরপরই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঢাকা সফর করবেন। গত তিন দশকে বাংলাদেশে কোনও ফরাসি প্রেসিডেন্টের এটিই হবে প্রথম সফর।এর আগে সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট মিটাররান্ড ১৯৯০ সালের ২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।গত ৫ সেপ্টেম্বর ফরাসি দূতাবাস জানায়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ফ্রান্সের কৌশল বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে যাবেন। এই সফর দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে চলা একটি দেশের সঙ্গে ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার এবং দেশটির আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ দেবে।বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে বাংলাদেশ এবং ফ্রান্সের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বিশেষ করে প্যারিস এজেন্ডা ফর পিপল অ্যান্ড দ্য প্ল্যানেট সক্রিয়ভাবে সমর্থন করে বাংলাদেশও। জলবায়ু সংকটের কারণে বাংলাদেশ যে ক্রমবর্ধমান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, সেটি কাটিয়ে উঠতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ঢাকাকে সহায়তার বিষয়ে সফরের সময় ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি পুনর্নিশ্চিত করবেন।দূতাবাসের ওই বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় এবং জাতিসংঘের অধীনে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফরাসি দূতাবাস বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগের বিষয়েও টুইট করেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই আমাদের অগ্রাধিকারমূলক ইস্যুগুলোর একটি। বাংলাদেশে এটি এএফডি ফ্রন্সের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যারা গত ৫ বছরে এই খাতে বার্ষিক প্রতিশ্রুতি প্রায় তিনগুণ বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর আসন্ন সফর এই প্রতিশ্রুতিতে নতুন গতিশীলতা আনবে।’ফরাসি দূতাবাসের এই টুইট বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্যারিসের প্রতিশ্রুতিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। একইসঙ্গে এখানে এএফডির ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং সর্বোপরি এটি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর আসন্ন সফরের সময় সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা গুরুত্বপূর্ণ এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।ফ্রান্স বর্তমানে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে এবং এই অঞ্চলের ভৌগলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্স-বাংলাদেশ সম্পর্ক যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে তিন বিলিয়ন ইউরোর বেশিতে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে ফ্রান্সে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।এছাড়া চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে ফরাসি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ চট্টগ্রামে শুভেচ্ছা সফর করে এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নেয়। এসময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত ম্যারি মাসদুপুয়ের একটি বিবৃতি দেন। মূলত এসবের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের বৃহত্তর অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বকেও স্বীকার করে নেয় ফ্রান্স।
Leave a Reply